আমার গলায় এখনো সেই পুরোনো দড়ির দাগ।
যা কালো-নীল হয়ে শুকিয়ে আছে।
যেন, কোনো জাতীয় প্রতীকের মতো।
তবু আমি হাঁটি, থামি না।
কারণ এখানে থামলেই মৃত্যু নেমে আসে।
এই দেশে মৃত্যু এখন আর শুধু শেষ কথা নয়,
এ এক দীর্ঘ পথ, নীরব ও অপমানজনক অপেক্ষা।
রাস্তার কোণে কোণে এখনো পড়ে আছে টিয়ারগ্যাসের খোল।
শিশুরা সকালবেলা জানালা খুললে প্রথম যে গন্ধ পায়
তা আর ফুলের নয়, বরং কাঁদানো গ্যাস আর পোড়া রাবার বুলেটের।
মায়েরা রান্নাঘরে চাল ধোয়ার সময় ভাবে -
এই চালের দাম কি আজ আরেকটু বেড়ে গেল?
নাকি আমার সন্তানের জীবনের দামটাই কমে গেল?
যারা টেলিভিশনের পর্দায় হাসে, দাঁত বের করে বলে,
“আমরা উন্নয়নের পথে এগিয়ে যাচ্ছি, ধৈর্য ধরুন”।
তাদের পকেটে লুটের টাকা জমে পাহাড় হয়ে গেছে।
আর আমাদের পকেটে শুধু ছিদ্র আর ছেঁড়া স্বপ্ন।
তারা বলে “অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়াচ্ছে”।
আমরা দেখি রিকশাওয়ালার পা কেটে যাচ্ছে।
দারিদ্র্যের চাবুক তাকে বিশ্রামের সুযোগটাও দেয়না।
এই মাটি আমার বাপ-দাদার ঘামে ভেজা,
এই নদীতে আমার পূর্বপুরুষের ঘ্রাণ মিশে আছে।
এই বাতাসে এখনো ভাসে সেই সব চিৎকার,
যেগুলো খবরের কাগজে ছাপা হয়নি কখনো।
তাই আমি বলছি -
আরেকটু জোরে চিৎকার করো, যেন দেয়ালগুলো কেঁপে ওঠে,
আরেকটু গভীরে ছুরি চালাও, যেন হাড় পর্যন্ত পৌঁছে যায় ক্ষোভ,
আরেকটু কম ভয় পাও, কারণ সামনেই বিজয়, পথ বাকি নেই।
যে রাত আর কখনো শেষ হবে না বলে মনে হয়,
সেই রাতের জন্যই আমরা জন্মেছি।
আমরা লড়বো, হয়তো অনেকেই মরবো,
কিন্তু মরার আগে অন্তত একবার
এই দেশের কুৎসিত মুখের সামনে
একটা নির্মম সত্যের আয়না তুলে ধরবো।
যাতে সে দেখতে বাধ্য হয় -
কীভাবে সে স্বাধীন একটা দেশ থেকে
ধীরে ধীরে লুটের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
কীভাবে সেখানে স্বাধীনতার নামে
একটা নতুন দাসত্বের শৃঙ্খল গড়ে উঠেছে।
আর কীভাবে এখনো, এই মুহূর্তেও,
আমাদের রক্ত দিয়ে সেই শৃঙ্খল ভাঙার প্রহর গুনছে।
আমি কখনও ভুলতে পারবো না -
প্রিয়তমার অপেক্ষাকে, মা-বোনের ভাঙা চোখকে,
না বাবার শেষ নিঃশ্বাসকে, যা কারাগারের দেয়াল ছুঁয়েছিলো।
না সেই ছাত্রের লাশকে, যে তার বুকে গুলি নিয়েও
প্ল্যাকার্ড উঁচিয়ে বলেছিলো -
“বুকের ভিতর দারুণ ঝড়, বুক পেতেছি গুলি কর।”
তাই হাঁটো, চিৎকার করো।
শ্লোগানে শ্লোগানে এগিয়ে চলো।
আর ভুলে যেও না - এই লড়াই শুধু আজকের নয়,
এ লড়াই সেইসব শহীদদের সিলসিলা,
যারা মৃত্যুর সন্ধিক্ষণেও শপথ নিয়ে বলেছিলো -
“আমার পরে আমার সন্তান আসবে, সে লড়াই চালিয়ে যাবে ”
আমরা থামবো না।
আমরা মরবো, কিন্তু থামবো না।
Error Page Image
Oooops.... Could not find it!!!
The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.
Go to Homepage
