আমি সেই ছিন্ন শৃঙ্খল, যে শিকল ভাঙে আঁধার রাতে,
আমি সেই নির্ভিক আলো, অন্ধকারে মশাল হাতে। যেখানে মিথ্যার সিংহাসনে চড়ে রাজত্ব করে ভয়,
সেখানে আমি ঝড়ের আভাস, ছিঁড়ে করি সব লয়।
আমি সেই বিষাক্ত তীর, যা বিঁধে যায় হৃদয় গভীরে,
আমি সেই বিষের ফোঁটা, শোষকের রক্তে মিশে মরে।
টিকেনা কোনো রাজাসন, যখন জাগি অরুণ প্রাতে,
আমার শ্বাসে জ্বলে উঠে সব, ভষ্ম করি আগুন-হাতে।
আমি সেই অগ্নি-ফুলকি, বাতাসে যে নাচে উন্মত্ত,
আমি সেই তীরের ফলা, ছুটে হৃদয়-ভেদে সব সত্য।
কোনো শাসকের মুখোশ আমার অচেনা নেই আর,
আমি খুলে দেবো সকল মুখ, দেখাবো ক্ষতের আঁচড়।
আমি সেই বিষাক্ত বীজ, মাটি চিরে যে জেগে ওঠে,
আমি সেই বিদ্রোহী ঝড়, রাতের আঁধারে বজ্র ফোটে।
তোমার কারাগার দেয়ালে আমি ফাটল ধরাই প্রতিদিন,
একদিন সব ধ্বংস হবে অত্যাচারীর রক্তাক্ত গিলোটিন।
মৃত্যুর পরেও ফিরি, ছাইয়ের ভিতর থেকে জ্বলে,
আমি সেই অমর আগুন, নিভেনা কোনো ছলে।
প্রতিটি শহীদের রক্তে প্রতিদিন বীর হয়ে জন্মাই,
নিপীড়িতের চোখে আমি বিদ্রোহের দীপ জ্বালাই।
আমার শিরায় শিরায় বাজে মুক্তির বৈশ্বানর,
আমার কণ্ঠে ধ্বনিত হয় মহাবিপ্লবের অগ্নিস্বর।
শাসন আমাকে বাঁধতে পারেনা ধরে দীর্ঘকাল,
কারণ আমি নদী নই, আমি সমুদ্রের উত্তাল।
যখন সবাই মাথা নত করে, ভয়ে নিশ্চুপ মরে,
তখন আমি দাঁড়াই একা, মুষ্টি তুলি উচ্চ শিখরে।
আমার রক্তে মিশে আছে সেই সব বিদ্রোহী বীর,
মরেও যারা অমর হয়েছে, উন্নত করেছে শির।
