থমকে গেল হঠাৎ করে সতেরো বছরের কাল।
তামিন শুয়ে নিথর দেহে, বুলেটবিদ্ধ বুক,
রক্তে ভাসা রাজপথে তার শান্ত মায়াবী মুখ।
একপাশে কতক উর্দিধারী, বন্দুক তাক করা,
লাশ নিতে যে আসবে তারেও মৃত্যু দিবে ধরা।
অন্যপাশে জনতা সব থমকে আছে ভয়ে,
বন্ধু কেবল পারল না আর থাকতে নীরব হয়ে।
পাগলপারা সুমন তখন দেয়নি নিজেরে ছাড়,
মারণাস্ত্র তুচ্ছ করে ভাঙল ভয়ের আঁধার।
বন্ধুকে সে টানবে বুকে, আনবে নিরাপদ—
কিন্তু পুলিশ আগলে ছিল রক্তমাখা পথ।
একটা বুলেট বিঁধল বুকে, বন্ধু পাশের সাথী,
ইটাখোলায় নিভল তখন দুই প্রদীপের বাতি।
একে অপরের চোখের কোণে পলকহীন সেই চাওয়া,
একই সাথে দুই বন্ধুর শহীদী পথ পাওয়া।
নব্বই বছরের তামিনের দাদি চোখের জলে ভাসে,
নাতিটা তার ফিরবে না আর কোনো মধুর হাসে।
দুই বছরের এতিম ছেলে বড় হলো যার কোলে,
সতেরোতেই বিদায় নিল বীরের মরণ বলে।
দাদি বলেন, "বয়স আমার হইলো নব্বই পার,
সতেরোতেই বিদায় কেন হইলো রে আজ তার?"
কবিতা নয়, গল্প নয়—এ যে রক্তের ইতিহাস,
জুলাই জুড়ে লিখে রাখা এক জাতির দীর্ঘশ্বাস।
(সত্য ঘটনা অবলম্বনে। ইটাখোলাঃ ১৯ জুলাই, ২০২৪)
