শহরের নির্জন কোণে—
যেখানে নামহীন সমাধিরা সারি গেঁথে নীরব শয়ানে,
সেথায় কোনো এপিটাফের ছায়া নেই,
কোনো পরিচিত নামের ফলক নেই।
ঘাতক ভেবেছিল,
পরিচয় মুছে ফেললেই বিচারের ছায়া মিলিয়ে যায়;
মাটির গভীরে চাপা দিলেই সকল ক্রন্দন থেমে যায়।
কিন্তু ঘাতক জানেনি,
মায়ের নাড়ির অদৃশ্য সুতো কোনো মানচিত্র মানে না,
মায়ের হৃদয়টান কোনো সীমান্তের নিষেধাজ্ঞা মানে না।
সেই মা, যাঁর বুক এখন শুধু হাহাকারের এক বদ্ধ দেয়াল।
একটি সমাধি—
হাজারো অজানা সমাধির মাঝে,
এক অলৌকিক আকর্ষণে প্রতিদিনই
তিনি এসে দাঁড়াতেন ঠিক সেইখানটায়,
নিভৃতে কথা বলতেন, চোখের জলে মাটি ভিজাতেন।
লোকে বলত, 'এই সারির সবাইই তো বেওয়ারিশ।'
মা শুধু বিষাদ-সিন্ধুর মতো নীরবে ঝরতেন;
হয়তো বাতাসে পাচ্ছিলেন সন্তানের সেই চিরচেনা ঘ্রাণ,
হয়তো মাটির গভীর থেকে উঠে আসা এক সূক্ষ্ম কম্পন,
যা কেউ না শুনলেও, টান পড়তো শুধু মায়েরই হৃদপিণ্ডে।
এভাবেই দেড়টি বছর কেটে গেলো—
বেওয়ারিশ লাশদের পরিচয় এলো।
বিস্ময়ে সকলে দেখলো, মায়ের অশ্রু ভুল পথে ঝরেনি।
যে সমাধিকে সমাজ বলেছিলো 'বেওয়ারিশের ঠিকানা',
মায়ের আত্মা তাকে আগেই চিনে নিয়েছিল আপন করে।
আজও মা সেই সমাধি বুকে জড়িয়ে শোয়,
যেন দীর্ঘ প্রবাস শেষে খোকা পেয়েছে মায়ের আশ্রয়।
শোন স্বৈরাচার—
তুই লাশ লুকিয়েছিলি মাটির গভীরে,
কিন্তু মায়ের হাহাকার লুকাবি কোন গহ্বরে?
তোর বুলেটের চেয়ে শক্তিশালী সেই মায়ের দীর্ঘশ্বাস,
যা আরশের পানে ধাবমান এক অব্যর্থ অভিশাপ।
কোনো প্রাচীর তোকে আড়াল করতে পারবে না,
কারণ এই মানচিত্রের প্রতিটি ধূলিকণা আজ
তোর পাপের বিচারক, তোর ধ্বংসের নীরব সাক্ষী।
তুই নিজের মাটিতেই এখন সবচেয়ে বড় 'বেওয়ারিশ'
তুই অভিশপ্ত, অভিশপ্ত তোর রক্তমাখা ঐ হাত—
বিচারের দিনে নামবে তোর ওপর অনন্ত কালো রাত।
মাটির গন্ধে চেনা নাম
Related Posts
দেশ ও দ্রোহ
Error Page Image
Oooops.... Could not find it!!!
The page you were looking for, could not be found. You may have typed the address incorrectly or you may have used an outdated link.
Go to Homepage
