সেখানে আমি ধারালো কলম, সেখানে বহ্নি দাবানল।
যেখানে তুমি অন্যায়-অনাচার, যেখানে দমনের ছায়া,
সেখানে আমি কাঁটা-ছড়ানো পথ, বজ্রের আঘাত-মায়া।
যেখানে তুমি জুলুমের রাজত্ব, মিথ্যার রাজ্যে রাজা,
সেখানে আমি আলোর নিশান, দ্রোহের আগুন-সাজা।
যেখানে তুমি শৃঙ্খল পড়াও, তোলো উজানের বাধ,
সেখানে আমি চিৎকার-ধ্বনি, উচ্চ গলায় প্রতিবাদ।
যেখানে তুমি লোভের মন্দির, পড়ো ভণ্ডামির মুখোশ,
সেখানে আমি ধ্বংসের ঝড়, মুখোশ ছেঁড়া আক্রোশ।
যেখানে তুমি বিষাক্ত হাওয়া, করো ধ্বংসের ঘনঘটা,
সেখানে আমি বিশুদ্ধ প্রাণ, বিজলীর আলোক-ছটা।
যেখানে তুমি মৃত্যু-ভয় দেখাও, বানাও ফাঁসির মালা,
সেখানে আমি অমরত্বের গান, নির্ভয়ে এগিয়ে চলা।
যেখানে তুমি শোষণের চাকা, গড়ো অসমতার প্রাসাদ,
সেখানে আমি রক্তের লাভা, সমতার ঝড়-উন্মাদ।
যেখানে নীরবতা শাসন করে, চিৎকার করে রুদ্ধ,
সেখানে আমি ফাটল ধরাই, অবিরাম করি যুদ্ধ।
যেখানে শিশুর স্বপ্ন কেড়ে নেয় যুদ্ধের কালো হাত,
সেখানে আমি আগুন-চিৎকার, চালাই বজ্রাঘাত।
তোমারে হটাতে জন্ম দেবো, দুর্জয় সাহসী বীর।
অশান্ত সে মাতৃগর্ভে, অপেক্ষায় সে অধীর।
ক্লান্তিহীন আমি, ছুটে যাবো, তপ্ত মরুপ্রান্তরে।
বহমান আমি, বয়ে যাবো, যুগ থেকে যুগান্তরে।
ফিরবো আমি বারেবারে, জন্ম থেকে জন্মান্তরে।
আমৃত্যু আমি, বেঁচে রব, লোকমনে, লোকান্তরে।
নির্ভীক কলম আমি, বিপ্লবী বিদ্রোহী দাবানল,
তোমারে রহিতে মগ্ন আমি, দুর্নিবার চিরকাল।
